প্রতিবন্ধীতা ভেদ করে সফলতার দ্বার প্রান্তে মোঃ রকিবুল ইসলাম - চ্যানেল দৃষ্টি

Header Ads Widget

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

প্রতিবন্ধীতা ভেদ করে সফলতার দ্বার প্রান্তে মোঃ রকিবুল ইসলাম

প্রতিবন্ধীতা থাকার পরেও একজন সফলতার দ্বার প্রান্তে মোঃ রকিবুল ইসলাম। সে একজন ব্যবসায়ী, খামারি ও সংগঠক।

প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যাবশ্যয় থাকলে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও সফল সংগঠক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হতে পারে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলছে মোঃ রকিবুল ইসলাম। সে একজন জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সেলিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। তথাপি বাবার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় কে সফলভাবে পরিচালনা করছে। তার নিরালস প্রচেষ্ঠায় এবং নেতৃত্বে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রমান্বয়ে বর্ধিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি সে নিয়োমিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করছে।


ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপর ইউনিয়নের খালাসি দূর্গাপুর নিবাসি মোঃ হাসমত আলী ও ইয়াসমিন আক্তারের একমাত্র সন্তান রকি। বাবা প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মা গৃহণী। রকির বয়স যখন চৌদ্দ বছর, তার বাবা শখ করে চল্লিশটি পাকিস্তানি মুরগী কিনে আনে এবং তা পুষতে থাকে। তাতে বেশ কিছু টাকা লাভ হয়। তাই রকির বাবা মুরগীর খামার করার উদ্যোগী হন। পরবর্তীতে রকির বাবা পাঁচশত মুরগী এবং এর পরে পাঁচ বছরের মধ্যে চার হাজার মুরগীর সেড তৈরি করে। এর মধ্যে রকি পড়াশুনার জন্য শহরের স্কুলে ভর্তি হয়। কারণ তার বাবা মার ইচ্ছা ছিলো রকিকে উচ্চ শিক্ষায় ‍শিক্ষিত করা। ২০১৪ সালে
রকি সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী সম্পূর্ণ করে। তখন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকুরির ব্যাপারে তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা বিদ্যামান ছিলো না। অনেক চেষ্টা করে সরকারি চাকুরি না পেয়ে রকি তার বাবার পোল্ট্রি ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করে।

অল্পদিনেই রকি তার নিরালস উক্ত ফার্মের সফলতা বয়ে। বর্তমানে তার ফার্মে ১৮ হাজার সোনালী মুরগী পালনের সক্ষমতা রয়েছে। উক্ত রকি ফার্মে দুইজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ মোট আট জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এই করোনাকালিনে সে তাদের বেতন ভাতা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি রকি ফার্মটি সম্প্রাসারন ও বেকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান সৃষ্ঠির লক্ষ্যে ফরিদপুর শহরের অতি নিকটেই এক একর জমি প্রস্তুতের কাজ করছে। রকি বলেন সরকারি সহযোগিতা ও সহজলভ্যে প্রকল্প ঋণ সহায়তা পেলে সুবিধা হতো। এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ প্রায় একশত লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব।


রকি ব্যবসা করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় তার সাধ্যমত অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহযোগীতা করে আসছে। ইতিমধে সে সহস্রাধিক অসহায় দুস্থ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে শীতবস্র বিতরণ করেছে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেছে। সে ফরিদপুর প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা, এসোসিয়েসন অব পারসন’স উইথ সেলিব্রাল পালসি ও তারণ্যের আলো’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি দীর্ঘ চার বছর ফরিদপুর বহুমূখী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন। তিনি তারুণ্যের আলো নামক একটি সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন। তিনি বলেন তরুণদেরকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।


1 টি মন্তব্য:

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

পৃষ্ঠাসমূহ