সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন সমান সুযোগ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে যাওয়ার পথ কোথায়? - চ্যানেল দৃষ্টি

Header Ads Widget

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন সমান সুযোগ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে যাওয়ার পথ কোথায়?

 


মোঃ রকিবুল ইসলাম, সম্পাদক ও কলামিস্ট, চ্যানেল দৃষ্টি

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—তাদের প্রয়োজন মূলত সহানুভূতি ও সাহায্য।

কিন্তু একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জীবনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কি শুধুই সহানুভূতি?

নাকি শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, Accessibility, মর্যাদা এবং সমান সুযোগ?

বাস্তবতা হলো, একজন মানুষকে তার প্রতিবন্ধিতার জন্য নয়, বরং তার সক্ষমতা, দক্ষতা ও সম্ভাবনা দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।


সহানুভূতির চেয়ে সুযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কারও প্রতি সহানুভূতি দেখানো মানবিক আচরণ হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে প্রয়োজন সুযোগ।
যেমন—
  • মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ
  • প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ
  • দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ
  • কর্মসংস্থানের সুযোগ
  • উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ
  • Accessible পরিবেশ
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ
  • সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার

একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যদি উপযুক্ত সুযোগ পান, তাহলে তিনি শুধু নিজের জীবনই পরিবর্তন করতে পারেন না; পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন।


বাধা কোথায়?

অনেক সময় প্রতিবন্ধিতার চেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়—

ভুল ধারণা, বৈষম্য, অবহেলা এবং সুযোগের অভাব।

কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি একজন দক্ষ মানুষকে শুধু প্রতিবন্ধিতার কারণে কাজের সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতিটা শুধু সেই ব্যক্তির নয়—সমাজও একজন সম্ভাবনাময় মানুষকে হারায়।


প্রযুক্তি বদলে দিতে পারে সম্ভাবনার পথ

ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন অনেক সুযোগ তৈরি করেছে।

অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট তৈরি, অনলাইন ব্যবসা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ঘরে বসেও কাজের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

তবে প্রযুক্তির সুযোগ তখনই কার্যকর হবে, যখন তা হবে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং Accessible।


আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শুধু “সহায়তার প্রয়োজন এমন মানুষ” হিসেবে দেখার পরিবর্তে তাকে দেখতে হবে একজন—

শিক্ষার্থী হিসেবে, কর্মী হিসেবে, উদ্যোক্তা হিসেবে, নাগরিক হিসেবে, নেতা হিসেবে এবং সম্ভাবনাময় মানুষ হিসেবে।

সমাজের দায়িত্ব করুণা দেখানো নয়; বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেকে নিজের যোগ্যতা প্রকাশের সুযোগ পায়।


চ্যানেল দৃষ্টি বিশ্বাস করে—

“প্রতিবন্ধিতা নয়, সুযোগ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই পারে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিতে।”

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে কাউকে পিছনে ফেলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাই আসুন—

সহানুভূতির পাশাপাশি সুযোগ তৈরি করি।
করুণার পরিবর্তে মর্যাদা নিশ্চিত করি।
বৈষম্যের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তি গড়ে তুলি।



শেষ কথা

একজন মানুষের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করার আগে আমাদের প্রশ্ন করা উচিত—

আমরা কি তাকে যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছি?

কারণ অনেক সময় মানুষের সম্ভাবনা সীমিত নয়—আমাদের দৃষ্টিই সীমিত।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

পৃষ্ঠাসমূহ